
নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুই দিনব্যাপী মহাষ্টমী পুণ্যস্নান উৎসব শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে শুরু হয়ে শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত ১২টা ৪৫ পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এই উৎসব চলবে।
জানা গেছে, লগ্ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্র পাঠ করে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব ও আম্রপল্লব নিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে আসা পূণ্যার্থীরা স্নানে অংশ নিয়েছেন।
এ উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের স্নান উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবেন। বসানো হয়েছে ৭টি ওয়াচ টাওয়ার, ৭০টির অধিক সিসি টিভি ক্যামেরা ও ৭টি মেডিকেল ক্যাম্প। এ ছাড়া ১০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে জরুরি সেবা প্রদানের জন্য।
এর বাইরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাসহ সব জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো স্নান উৎসব চলাকালীন সময় প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী কর্মীও।
নারায়গঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রথমবারের মতো এবারের স্নানোৎসবে ড্রোন থাকছে। এ ছাড়া এবার আমাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন থাকছে।
তিনি আরও বলেন, পূণ্যার্থীদের সুবিধার্তে ম্যাপ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এবার স্নানোৎসব হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের বাইরে থেকে আসা বিদেশি পূণ্যার্থীদের ব্যাপারে আলাদা করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা ননী গোপাল সাহা বলেন, এবারের মতো এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে কখনও দেখিনি। জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা নিজে হেটে হেটে প্রতিটি ঘাটের সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি এবারের স্নান উৎসবে উৎসবমুখর করতে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলামের কঠোর পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু নিরাপত্তা নয় ,দায়িত্ব পালনকালে একজন পুলিশ সদস্যের খাওয়া দাওয়ার বিষয়টিও জেলা প্রশাসক নিজে তদারকি করছেন।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এবার মেজর আফসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্যরাও মোতায়েন থাকবেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৫১:৩৫ ৩ বার পঠিত