
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সমাবায় সমিতি গঠন করে গ্রাহকদের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে থাকা ৫ মামলার আসামি সমবায় সমিতি শতদলের পরিচালক আব্দুল বাছেদকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব।
গ্রেফতার আব্দুল বাছেদ মাদারগঞ্জ উপজেলার সুখনগরী এলাকার মৃত আব্দুস সোবহান ওরফে আকালের ছেলে। তিনি মাদারগঞ্জ শতদল সমবায় সমিতি লিমিটেডের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।
ওসি মো. নাজমুস সাকিব বলেন, আসামির বিরুদ্ধে মাদারগঞ্জে সমবায় সমিতির তহবিল বা সম্পদ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ একাধিক মামলা ছিল। সম্প্রতি মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নামে সমবায় সমিতির নামে গ্রাহকের হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে আত্মগোপনের অভিযোগে ৫টি মামলা দায়ের করেন গ্রাহকরা। গত কয়েক মাস ধরেই আসামিকে গ্রেফতার ও জমানো টাকা ফেরৎ পেতে মাদারগঞ্জ উপজেলার হাজারো মানুষ মিছিল সমাবেশসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। আন্দোলনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেন আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের। এরই ধারাবাহিকতায় জামালপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদ ও প্রযুক্তির সহযোগিতায় রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্পের কলাবতীর একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। সমিতির অন্যান্য অসামিদেরকে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, পতিত আওযামী লীগ সরকারের সময়ে মাদারগঞ্জ উপজেলায় ২৩টি নিবন্ধনকৃত সমবায় সমিতি ৩৫ হাজার গ্রাহকের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অফিস তালাবদ্ধ করে আত্বগোপনে চলে যায়। এর প্রতিবাদে ২৩ মার্চ ২৪ কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে হাজারো নারী-পুরুষ জামালপুর এসে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে এই সমাবেশ। চলো চলো জামালপুর যাই, এই মুহূর্তে আমাদের টাকা ফেরত চাই– এই শ্লোগানে মাদারগঞ্জ উপজেলা থেকে জামালপুর সদরে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গত এক বছর ধরে তারা টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। অনেক কষ্টের টাকা সমবায় সমিতিতে জমা রেখে এখন বেকায়দায় পড়েছেন। কেউ কেউ টাকা না পেয়ে বিনাচিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রায় ৪ ঘণ্টার সমাবেশ চলাকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৩২:১৬ ৯ বার পঠিত